নারীর শিক্ষা এবং মা-বাবা ছাড়া কিছুই নাই

প্রকাশিতঃ মার্চ ২২, ২০২৬, ০৫:৩০

সৈয়দা রাশিদা বারী: অনেক সচেতন নারীই বলেন কিন্তু সেসবের তো আর মর্যাদা নাই! কেউ পাত্তা দেয় না! এবার মর্যাদাশীল নারী রুমিন ফারহানা বলেছেন, শিক্ষা নারীর স্থায়ি সম্পদ। মা বাবা নারীর স্থায়ি পরিচয়। তাই শিক্ষা এবং মা বাবা ছাড়া, নারীর আসলে গর্বের ধন কিছু নাই। ‌কেউ নাই। যে জিনিসের গ্রান্টি নাই। গ্যারান্টি নিশ্চিত থাকেনা স্থায়িত্ব ভাবে। সেই জিনিস নিয়ে গর্ব অহংকারেরও কিছু নেই।‌ অধিকার ফলানো, গর্ব অহংকার করা বৃথা। যে জিনিসের অধিকার নিশ্চিত এবং সম্পর্কের কোন পরিবর্তন হয় না, সেটাই স্থায়িত্ব সম্পদ। যেমন মা বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক উল্টায় না। আল্লাহ উল্টানোর নির্দেশ দেন নাই। মরে গেলেও সম্পর্ক থাকে অটুট। ঝগড়াঝাঁটি রাগ করে চলে গেলেও সম্পর্ক নষ্ট হয় না একই রকম থাকে। সামনে যাওয়া নিষেধ থাকে না। সহযোগিতা করতে বাধা থাকে না। এইটা পার্মানেন্ট। শিক্ষাও কেউ কেড়ে নিতে পারে না। বরং শিক্ষা জ্ঞান মানুষের যত দেওয়া যায় নিজের মধ্যে তত বেড়ে যায়। কোন একজন লেখক এর একটা কবিতা আছে,

‘ধন ধন ধন,
বিদ্যা মহাধন।
এই ধন কেহ,
নাহি নিতে পারে কেরে
যতই করিবে দান,
তত যাবে বেড়ে।’

তাই এইটা গর্ব অহংকার এবং অধিকারের পার্মানেন্ট জিনিস। মূল্যবান সম্পদ সম্পত্তি। স্বামী কোন সম্পত্তি নয়। উনি শখের এবং বিনোদনের জন্য বিখ্যাত। শ্রেষ্ঠ। উনি সাময়িক প্রয়োজনীয় এবং আনন্দের জিনিস। দিল্লির লাড়ু, খেতে ভালো লাগে, যতক্ষণ থাকে দেখতেও ভালো লাগে। হাওয়াই বাজি আনন্দ উৎসব শুভক্ষণের জন্য চমৎকার। হ্যাঁ স্থায়িত্ব আনন্দ এবং প্রয়োজনীয় হতেও পারে, নাও পারে। চিরদিনের সে গ্যারান্টি মহান আল্লাহ রাখেন নাই। আল্লাহ স্বামী ব্যক্তির পাওয়ার দিয়েছেন, ক্ষমতা রেখেছেন, স্বামী পুরুষ সে তার ব্যক্তিগত রুচি অভিরুচি প্রয়োজনে, যা ইচ্ছা করতে পারে। স্ত্রীকে যেমন করে খুশি, যে কয়দিন খুশি, রাখতে পারে। তাড়িয়ে দিতেও পারে। রাজরানী করে রাখতে পারে। দাসী দাবি করেও রাখতে পারে। ইত্যাদি। স্ত্রীর একলা রাখতে পারে। তার নিজের উপরে একক নেতৃত্ব কর্তৃত্ব দিয়ে। স্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী করে, স্ত্রীর উপরে স্ত্রী একাধিক আনতেও পারে। সতীন ১ জন থেকে ৩জন পর্যন্ত দিতে পারে! মানে পুরুষদের ৪জন স্ত্রী রাখা, বিয়ে করা জায়েজ আছে। এর অর্থ কি হয়? আর এই অবহেলা অপমান কেমন? উদাহরণ দিতে বলছি, দোষ ধরবেন না।পুরুষের যদি উল্টো ভাবে সতীন দেওয়া যেত, তাহলেই বুঝতো। আল্লাহ নিজেও প্রতিদ্বন্দ্বী নেন নাই। ছোট কালের থেকে ক্লাস ওয়ান থেকে পড়ে মুখস্ত করতে হয়েছে। আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, আল্লাহর কোন শরিক নাই! আবার ধারাপাতে পড়েছি, এক আল্লাহ, দুই জাহান, তিন ভুবন…. সাত দোযখ, আট বেহেশ্ত ইত্যাদি! পুরুষেরও প্রতিদ্বন্দ্বী রাখেন নাই দেন নাই! কেন? প্রতিদ্বন্দ্বী ভালোই যদি হবে, ভালোই যদি লাগবে, আরামের এবং শান্তিরই যদি, তাহলে উনার কেন প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া?? প্রতিদ্বন্দ্বী মুক্ত, প্রতিদ্বন্দ্বিহীন প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন!! আল্লাহ মাফ করো, তোমাদের নির্মম নিষ্ঠুর অন্যায় নিয়ম নীতি রীতিতে বলতে বাধ্য হলাম তাই বললাম উদাহরণ দিতে। উদাহরণ দেওয়া যায়। ডিসকাশন করা যায়। এগুলোও জ্ঞানচর্চার অংশবিশেষ। জ্ঞানচর্চা করার জন্য তো তুমি সুদূর চীন দেশে যেতে বলছো মানুষের। অর্থাৎ খুঁজে খুঁজে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সকল উদঘাটন করা। তোমার আবার কিছু বললে দোষ হবে কেন? কিছু বলতে না দেওয়া, অন্যায় কষ্ট মেনে চুপ করে থাকার নির্দেশ দেওয়া, এটা কিন্তু বৈষম্যর থেকেও বড় বৈষম্য। অন্যায়ের থেকেও বড় অন্যায়। রাজনীতিকরাই কাজ করে! তারা যে যখন রাষ্ট্র চালায়, যেমন ইচ্ছা তেমন করে। জনগণের কোন রায় শোনে না। কোন ইচ্ছা আকাঙ্খা প্রয়োজন মানে না। তাদের অন্যায়গুলো দোষ এবং নির্মমতা বলতে দেয় না। কেউ বললে তাকে গুম খুন জেল ফাঁসি ইত্যাদি দিয়ে তারা তাদের রাজ্য কায়েম করে। আমি কিন্তু বর্তমান সরকারকে কিছু বলছি না। তিনি তো সবেমাত্র এসেছেন, এখনো ভালোই দেখতেছি। বিগত দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি বললাম। কি অবস্থা, সমাজব্যবস্থার! আল্লাহর নীতি নির্ধারণের কারণে শরীর স্বাস্থ্যে নড়বড়ে পুরুষও সুস্বাস্থ্য সবল স্ত্রীর উপরে, সুস্থ সবল স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায়, আইনত অধিকারে আরো কিছু নারীর শরীর ব্যবহার করার প্রত্যয় রাখে! অধিকার মারাই! অধিকারের বলেই পূরণ করে পুরুষ পুরুষত্বের দাপট! বাপরে বাপরে বাপ!! ইত্যাদি। মানে একসাথে ৪টা পর্যন্ত স্ত্রী রাখা জায়েজের পারমিশনে। বললাম তো সে শরীর স্বার্থে অক্ষম হলেও। শুধু কি ভাত কাপড় দিলেই হয় নাকি? যা পুরুষ মনে করে! গরুর যেমন বেঁধে খাবার দেয়, না দেয়, যেমন খুশি তেমন। গরুর ইচ্ছার পছন্দের প্রয়োজনের পালনকর্তার কাছে মূল্য নাই।গরুর প্রতিবাদের উপায় থাকে না। ঠিক তেমন নারীর ক্ষেত্রেও পুরুষ করে! তাই
নারী শরীর স্বাস্থ্যে সচল হলেও, একের অধিক পুরুষের শরীর ব্যবহার করতে নিষেধ আইনত। অথচ আইন ভঙ্গ করে অধিকাংশ পুরুষ। তারা সুযোগে সৎ ব্যবহার করে নারীর দেহ নিয়ে। গোপনে লুকিয়ে পুরুষরাই একাধিক জন মিলে, স্বামী থাকলেও স্বামীর উপরে একজন নারীকে ভোগ করে আনন্দচিত্তে!! এদের কার্যকলাপে মনে হয় যেন, বিষ লুকিয়ে খেলে প্রতিক্রিয়া নাই মরে না। প্রকাশ্যে খেলে মরে। মানে একজন নারীকে ৩-৪ জন পুরুষ মিলে বিয়ে করতে পারে না! ঘর সংসার করতে পারে না নাজায়েজ বলে! কিন্তু গোপনে ভোগ করতে পারে! গোপনে ঘর সংসার করতে পারে! এটা কি পুরুষের জন্য জায়েজ!?কেমন জায়েজ?? পয়জন বিশ পুরুষ লুকিয়ে খাবে। প্রকাশ খাবে না। বাহ! বা বা। এরাই ধর্ষক, চরিত্রহীন! অধম। আমি লজ্জায় ঘৃণায় তেমন ছোট করে গালি দেওয়ার ভাষা পাই না এদের। তাই পুরুষ জাত বলি। এর থেকে বড় বাকা কথা ভাষা আর পাইনা। তাই সাধারণত আমি ভালো ছেলেদের মানুষ বলে অভিহিত করি।
পুরুষ বলি না। আমার কাছে মনে হয় যে পুরুষ মানেই সর্বত নিম্ন কলঙ্কিত এক প্রাণী। যাক নারীকে জোর করে, ষড়যন্ত্র পলিটিক্সে ফেলে, ব্ল্যাকমেল করে নানান ভাবে ভোগ করে পুরুষ অবৈধ ভাবে! নিজের স্ত্রীকে কন্যাকে ঘরে রেখে! এইসব চরিত্রহীনদের জন্যই পুরুষ জাতির উপর আমার ঘৃণার উৎপত্তি যেহেতু। কেননা পুরুষরা একে অপরের সাপোর্ট করে। হ্যাঁ সকল নারীর কথা, পুরুষ প্রয়োজনে একাধিক বিয়ে করুক। তবে নারীর যেমন একের অধিক স্বামী রাখার নিয়ম নাই। পুরুষেরও একের অধিক স্ত্রী রাখার নিয়ম নাই। এইভাবে করুক। তাহলে কিন্তু নারীর উপরে অন্যায় এবং বৈষম্য করা হয় না। পুরুষ অন্যায় করে বলে কথা থাকেনা। নারীর প্রতি যত অন্যায় আর বৈষম্য, এই নিয়মটার জন্য। যারা এই অন্যায় নিয়ম বানিয়েছে তারা নিজেরা কিন্তু কোন প্রতিদ্বন্দ্বী কোন সতীন নিজেদের উপরে রাখেন নাই!! কি সাংঘাতিক নৃশংস ভয়ংকর নীতি আদর্শ তাদের চুক্তি নামাই তারা রেখেছেন!! চিন্তাও করা যায় না!! তবে এটা আল্লাহর নীতি আদর্শ নয়, আল্লাহর দায়ী করা ঠিক নয়। আল্লাহকে ভাঙিয়ে ব্যবহার করেছে পুরুষ নারীকে বাধ্য রাখার জন্য! কারণ নারীরা আল্লাহ ভক্ত। নারীরা আল্লাহর প্রতি অনুনয় বিনয় দুর্বল! নারীরা আল্লাহকে প্রকৃত অর্থেই ভালবাসে। এই সুযোগে পুরুষ নারীর দিয়ে আল্লাহর সাথে ব্যবসা করে নিলো। পুরুষের তৈরি পুরুষের আবিষ্কৃত নারীকে কবজা রাখার নিয়ম নীতি! তাইতো একপক্ষী সকল সুযোগ সুবিধা পুরুষের উপর সাব্যস্ত। মানে মানুষের হাতের ক্ষমতারটা পুরুষের পক্ষে পুরুষের সুযোগ সুবিধা দেওয়া। মহান আল্লাহর হাতেরটা না। মহান আল্লাহর হাতের এবং নেতৃত্ব কর্তৃত্ব দেওয়া পরিচালিত সব কিছুতে, পুরুষ নারীর বৈষম্য করে রাখা নেই। সমান অধিকারে রাখা হয়েছে। কোনরূপ বৈষম্য ভুলেও নাই। যেমন ঝড়-বৃষ্টি রোদ সুন্দর সূর্যের আলো, ফুল পাখি গাছ তরুলতা বল পাহাড় পর্বত, আকাশ বাতাস মাটি পানি ইত্যাদি নারী পুরুষের জন্য কোন পার্থক্য করে সাপ্লাই কিন্তু দিচ্ছেন না। গাছ কিন্তু নারী পুরুষের ভাগ করে পার্থক্য বানিয়ে অক্সিজেন সাপ্লাই করে না। শুধুমাত্র আল্লাহ পরিচালিত, জিনিসে নারীর উপর কোন বৈষম্য নাই।পুরুষের হাতে ক্ষমতা না দেওয়া পরিচালিত সবকিছু নারী-পুরুষের বিভেদ নেই। মানে আলাদা করে দেওয়া হয় নাই। সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। সুযোগ-সুবিধা সমান রাখা হয়েছে। রৌদ্রে গেলে রোদ্দুর তাপ পুরুষের দুই ভাগ, অর্থাৎ বেশি, নারীর এক ভাগ, অর্থাৎ কম দেয় না। কিন্তু পুরুষের হাতের ক্ষমতাই মানে পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থায়, নারীকে ঠকানো হয়েছে! ছোট করা হয়েছে। নারীকে অপমান অপদস্থ প্রতিপন্ন হেইয়ো করা হয়েছে! নিকৃষ্ট পাত্রী বানানো হয়েছে। পুরুষ নিজেদের ক্ষমতায় এটা করেছে কিন্তু আল্লাহকে ব্যবহার করে। শুধু কন্যা হলে বাড়ির সম্পদ শরিকের পুত্ররা অংশীদারি হয় যদি। শুধু পুত্র হলেও তো অন্য শরীফের কন্যারা অনুরুপ অংশীদারিত্ব হবে। পাবে। তবেই বিচার ঠিক হয়। এরকম অনেক কিছুতে নারীকে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ঠকানো হয়েছে। ছোট করা হয়েছে। অপমান করা হয়েছে। এত পুরুষ ধর্ষক চারিদিক! নারী ধর্ষক নাই কেন? নারী ধর্ষক থাকলে, কন্যা শিশুর যেমন নিরাপত্তা নাই। তেমন পুত্র শিশুর নিরাপত্তা থাকতো না। এটা হল ফরমালার কথা। দাম্পত্য জীবনে এবং সমাজে নারী বিবেকবান বিবেচনা সম্পন্ন নিরীহ সৎ শোভনীয় নির্মল আদর্শিক ভালো। পুরুষ বিবেকহীন নীতি জ্ঞান আদর্শহীন, অধম অসৎ নির্মম নিষ্ঠুর নিকৃষ্ট খারাপ। সমাজে নারী শিশু বালিকার নিরাপত্তা নাই, পুরুষরাই ধর্ষণ করে তাই। পুরুষ শিশু বালকেরও নিরাপত্তা থাকতো না, নারীরাও ধর্ষণ করলে। বালকের নিরাপত্তা আছে কারণ নারীরা ধর্ষণ করে না। মা বাবা এবং সন্তানের সম্পর্কের ফাটল ধরে না। ধরলেও চেঞ্জ হয় না। ধুয়েও যায় না। সামনে যাওয়া যায়। পরিচয় ব্যবহার করা যায়। সাবেক বলা লাগে না। পূর্বে ছিল এখন নাই এটা বলা লাগে না একটা নারীকেও। কিন্তু বহু নারীর স্বামীর ক্ষেত্রে বলতে হয়। যে কারণে বর্তমান এমপি জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য
রুমিন ফারহানার কথায় ঠিক, নারীর শিক্ষা এবং মা-বাবা ছাড়া কিছুই নাই।

২২.৩.২০২৬ ইং, সকাল ১০টা, রবিবার।