জয়শঙ্করের সঙ্গে দিল্লির হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর সাক্ষাৎ, তারেক রহমানের ভারত সফরের পূর্বপ্রস্তুতি!

প্রকাশিতঃ মার্চ ২০, ২০২৬, ১৬:১৩

সুকুমার সরকার: ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন স্বার্থ ও সুফলের লক্ষ্যে দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান শিগগিরই ভারত সফর করবেন, তার প্রস্তুতি হিসেবেই এই সফর। এরপরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিগগিরই ভারত সফরে যেতে পারেন বলে এমন কূটনৈতিক আভাস জোরালো হচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে। যদিও আনুষ্ঠানিক সফরের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং আমন্ত্রণ বিনিময়ের প্রেক্ষাপটে এ সফরকে সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।
ঢাকার খবর- আজ শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে গিয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। পরে এস জয়শঙ্কর ও এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানান। জয়শঙ্কর তার এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছিল আমাদের আলোচনার প্রতিপাদ্য।’
বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ তার পোস্টে লিখেছেন, এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন সুফলের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ যে প্রস্তুত আছে, সেটা নিশ্চিত করেছি।
উল্লেখ্য-গত বছরের মে মাস থেকে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে রিয়াজ হামিদুল্লাহ দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতে কাজ শুরুর পর বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবার দেশটির মন্ত্রী পর্যায়ে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন। অবশ্য গত বছরের আগস্টে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাতের বিষয়টি বাংলাদেশের একটি সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফরের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও পাঠানো হয়। এই আমন্ত্রণটি ঢাকায় সফররত ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। চিঠিতে মোদি দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে ভুটান সফরে যাবেন। এরপর তিনি ভারত সফর করবেন বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিশেষ দূত পাঠিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপনের কথাও উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে সেগুলো হলো, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সমন্বয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জল বণ্টনসহ দীর্ঘমেয়াদি ইস্যু। বিশেষ করে তিস্তার জল বণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যুগুলো আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। নতুন সরকারের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন একটি বড় কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
এদিকে চিন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়, বরং এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনার প্রেক্ষাপটও বটে। যদিও এখনো সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা-শিগগিরই এ সফর বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।