ঈদে এলাকায় ফিরছেন মন্ত্রী-এমপিরা, উচ্ছ্বাসে মুখর বিএনপি নেতাকর্মী

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:৩২

জাহাঙ্গীর খান বাবু: পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপি ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দীর্ঘ রাজনৈতিক সময় পেরিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর এবারের ঈদ ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অধিকাংশ নেতা ছুটছেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়াতে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এলাকায় যাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আগেভাগেই নিজ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।
বিএনপির নেতাদের মতে, গত প্রায় ১৭ বছর নানা রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও অনিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেননি তারা। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ফলে এবারের ঈদ তাদের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর সপরিবারে দেশে ঈদ উদযাপন করবেন। তিনি ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, আলেম-ওলামা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
ঈদের দিন রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনেক মন্ত্রী-এমপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজ নিজ এলাকায় যাবেন। আবার কেউ কেউ আগে এলাকায় গিয়ে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরবেন।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কেউ ঢাকায় ঈদ করবেন, আবার কেউ নিজ এলাকায়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় ঈদ করে পরদিন ঠাকুরগাঁও যাবেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে ঈদ উদযাপন করবেন। এছাড়া অন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে—কেউ রাজধানীতে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন, আবার কেউ নিজ এলাকায় গিয়ে জনগণের সঙ্গে ঈদ ভাগাভাগি করবেন।
পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ঈদের দিনও বিভিন্ন টার্মিনালে তদারকি করবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিকভাবে স্বস্তিদায়ক পরিবেশে মানুষ এবার ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঈদের নামাজ শেষে তারা সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ। দীর্ঘদিনের চাপা পরিস্থিতি কাটিয়ে নেতাকর্মীরা ফিরছেন নাড়ির টানে—যেখানে ঈদের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বস্তি ও নতুন উদ্দীপনার বার্তা।