স্টাফ রিপোর্টার : চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহিণীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিনেও চাকরি না দিয়ে উল্টো হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহাবুব হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যিনি জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের ইজারাদার হিসেবে আউটসোর্সিং কোম্পানি খান এন্ড ব্যাদার্সের পরিচালকের পদে দায়িত্বরত আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমা বেগম (২৬) কামরাঙ্গীরচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এছাড়াও তার আউটসোর্সিং কোম্পানিতে কর্মরত বিভিন্ন চুক্তি ভিত্তিক মজুরিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের একাধিক মাসের বেতন না দিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন ও পুন নিয়োগ এর কথা বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন এই বেক্তি। এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমে স্পষ্ট ভাবে সংবাদ প্রচারিত হয়। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী সকল শ্রমিক প্রচন্ড রকমের মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এদিকে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বেজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নাজমা বেগম একজন গৃহিণী। তার স্বামী মোঃ ফারুক একটি জুতার কারখানায় কর্মরত প্রায় ৯ মাস আগে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন হুজুরপাড়া এলাকায় পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে একটি হাসপাতালে ক্লিনারের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে ওই ব্যক্তি তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চাকরির কোনো ব্যবস্থা না করে বরং যোগাযোগ করতে গেলে এড়িয়ে যান। একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে ঘুরিয়ে দেন।
সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাজমা বেগম তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত কারি টাকা না দিয়ে উল্টো তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন । এমনকি টাকার বিষয় নিয়ে বেশি চাপ দিলে ক্ষয়ক্ষতি করার ভয়ও দেখানো হয় বলে ভুক্তভোগীর দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাহাবুব হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যিনি খান এন্ড ব্যাদার্সের পরিচালক হিসেবে পরিচিত, চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় পূর্বেও গুঞ্জন রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কামরাঙ্গীরচর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।