আপনাদের একটি সিদ্ধান্তে ঠিক হবে দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১৫:৩৬

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আপনাদের একটি সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে– বাংলাদেশ কি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক পথে এগোবে, নাকি সেই পুরোনো ক্ষমতার বৃত্তে ফিরে যাবে।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় দেওয়া ভাষণে তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটারদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের নিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন।ভাষণের শুরুতে ড. ইউনূস এবারের নির্বাচন ঘিরে সার্বিক প্রচারণাকে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ উল্লেখ করে রাজনৈতিক দল, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পর সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন একটি রুটিন আয়োজন নয়; এটি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। রাজপথের দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে। ৫১টি রাজনৈতিক দল ও দুই হাজারের বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণকে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে আলাদা করে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তরুণদের দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এবার সেই নীরবতার জবাব দেওয়ার সময়। নারী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্র গঠনে তাদের ভোটাধিকার মৌলিক অধিকার; নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মত প্রকাশ করতে হবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে রেকর্ড সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি ও কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।গুজব ও অপপ্রচার নিয়ে সতর্ক করে ড. ইউনূস বলেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ক্ষমতা হস্তান্তর না করার গুজবকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন– নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে। তথ্য যাচাইয়ে ৩৩৩ হটলাইনে যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।ভাষণে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়েও কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তুত এই সনদকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে দেওয়া প্রতিটি ভোট ঠিক করবে– সংস্কার হবে কি না। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। শেষে সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, জয়-পরাজয় যাই হোক, দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। ভয়কে পেছনে ফেলে ঐক্যের শক্তিতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের ভোটের দিনই হতে পারে নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।