আসাদুজ্জামান বাবুল : জননেতা তারেক রহমানের নির্বাচনী কর্মকান্ডে আমি একটা ইন্টারেস্টিং বিষয়ে লক্ষ্য করেছি, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনী কৌশল আর জননেতা তারেক রহমানের নির্বাচনী কৌশল অনেকটা একই ধরনের।
তারেক রহমান নিউইয়ার্কের মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানির মতো একই কৌশল অবলম্বন করেই নির্বাচনের ক্যাম্পেইন করে যাচ্ছেন, যাতে মানুষের মনোজগতে খুব সহজেই জায়গা করে নেওয়া যায়। মামদানি তার বক্তব্য দেওয়ার সময় যখন যে অঞ্চলে গেছেন বা যে সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছেন, কথা প্রসঙ্গে তিনি সেই অঞ্চলের বা সম্প্রদায়ের বাস্তব জীবন বা কালচার থেকেই
উদাহরণ দিতেন। তাদের ভাষাতেই বলার চেষ্টা করেন। যেমন ধরুন, তিনি ভারতীয় কমিউনিটির লোকদের সামনে কথা বলছেন, তখন তিনি বলিউড থেকে উদাহরণ দিয়েছেন।
আবার এরাবিয়ানদের সামনে কথা বলেছেন তখন তিনি এরাবিয়ান কালচার থেকেই উদাহরণ টানছেন। এতে করে মানুষ সহজেই নিজেদের কানেক্ট করতে পেরেছে। ফলে অল্প বক্তব্যে খুব সহজেই মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছেন।
তারেক রহমানও ঠিক একই কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি সেদিন চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রথমে সালাম দিয়ে বলেন, আন্নেরা ক্যান আছুন? এরপর তিনি চট্টগ্রামে তার বাবা এবং মায়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি এই চট্টগ্রামের পবিত্র ভূমিতেই শাহাদাতও বরণ করেছিলেন। আমার মা বেগম খালেদা জিয়াকে এখানেই ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এসব স্মৃতি টেনে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মূল কথায় প্রবেশ করেন।
তার মূল বক্তৃতায় প্রথমেই তিনি জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অর্জনকে এড্রেস করেন। এরপর বলেন যেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে এতো এতো মানুষ প্রাণ দিল, সেই পরিবর্তনে রাজনীতি শুরু করতে হবে আমাদের। তার জন্য শক্ত প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, খেটেখাওয়া মানুষ চায় তার জীবনের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। চাকরিজীবীরা চায় নিরাপদে চাকরি করতে। নারীরা চায় আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। এসব সমস্যার কথা অতিশয় চমৎকারভাবেই এড্রেস করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জনগণের ভোটে তার দল বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে। তার জন্য কিছু পলিসিও শেয়ার করেন তিনি। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যও ওয়াদাবদ্ধ হন তিনি।
তিনি বলেন আমরা চাইলে মানুষকে মন ভোলানো গল্প শোনাতে পারতাম। ভোট পাওয়ার জন্য আমরা প্রতিটি জেলায় জেলায় হসপিটাল করব। কিন্তু আমরা এসব না করে সুনির্দিষ্টভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে দলের পলিসিগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা। আমরা সেসব সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে এমন চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যাতে গ্রামেগঞ্জেও প্রতিটি নাগরিক প্রোপার স্বাস্থ্যসেবা পান। এজন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করব, যার ৮০ শতাংশ হবেন নারী।
প্রাইমারী থেকে শিক্ষাব্যবস্থা মৌলিক গ্রাউন্ড ঢেলে সাজানো ব্যাপারে পরিকল্পনার কথাও তিনি বলছেন। উদাহরণ টানেন, বেগম জিয়াকে কীভাবে একটা সিদ্ধান্ত ইমপ্লিমেন্ট করে নারীদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করেছেন। জননেতা তারেক রহমানও তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানান। সার্টিফিকেট লাভের শিক্ষা না দিয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি কী কী করতে চান সেটাও বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্যে তুলে ধরছেন। আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
তার বক্তব্যের সর্বজন গ্রহণযোগ্য উক্তি হলো জেন্টেলম্যানদের পলিটিক্সের আসার আহবান জানান। বলেন আমরা একদল আরেকদলের সমালোচনা করে দিন পার করলে এতে মানুষের উপকার হবে না। আমাদের উচিত দেশ গড়ার জন্য কার দলের কী পলিসি আছে তা নিয়ে জনগণের সামনে যাওয়া। জনগণই ডিসাইড করবে কাদের কোন পরিকল্পনা যুৎসই এবং ট্রাস্ট রাখা যায়। এমন পলিটিশিয়ানই আমরা চাই।